রাজধানীর খিলগাঁও থানার তিন যুবদল নেতার বিরুদ্ধে করা একটি মামলা ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী সাদিকুর রহমান আকন্দ সুজন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্তদের পক্ষের দাবি, মামলার বাদী সাদিকুর রহমান আকন্দ সুজনের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। দক্ষিণ বনশ্রীর দশতলা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় তারা যৌথভাবে একটি অফিস পরিচালনা করতেন। তাদের দাবি, ওই অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি কেনাবেচার একটি ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে অংশীদারদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তারা জানান, মোফাজ্জল নামে এক ব্যক্তির কাছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় একটি জমি বিক্রি করা হয়। ওই জমির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। জমিটি মর্জিনা কবিরের সঙ্গে বায়না করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
অভিযুক্তদের পক্ষের একজন জানান, হাবিব, রফিক, সোহেল, দিপুসহ কয়েকজন মিলে ওই জমির ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, জমি ক্রয় ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয় হয় এবং বিক্রয়মূল্য ছিল ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ফলে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মুনাফা হয়। ওই মুনাফার অংশ ভাগাভাগি নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত বলে দাবি করেন তিনি।
তাদের অভিযোগ, মুনাফার অংশ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। সেখানে হাবিবদের ৩৫ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে তারা দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি আর বাস্তবায়ন হয়নি।
অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, মামলায় যে ভিডিও ফুটেজ সংযুক্ত করা হয়েছে, সেখানে রফিক, হাবিব ও দিপুর সম্পৃক্ততা স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা গেছে। কয়েকটি পোস্টে সাদিকুর রহমান আকন্দ সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদলের খিলগাঁও থানা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী ইব্রাহিম হকি বলেন, “যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে একটি মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। খিলগাঁও, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাদিকুর রহমান আকন্দ সুজন বলেন, “আমি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের এনলিস্টেড এজেন্ট। আমি কারও টাকা মেরে খাইনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”
মামলার তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পর এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।