গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করার সময় বিএনপির দুই নেতাকে মারধর এবং তাদের মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ১০৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে মারধরের শিকার কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ১৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আজ সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত পুলিশের বাধার মুখে পড়েন।
প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে হাজির করার সময় গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীরা "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু", "আমরা সবাই মুজিব সেনা, নেত্রী মোদের শেখ হাসিনা" এবং "শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে"সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে শতাধিক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় সড়কের তিলছড়া এলাকায় অবস্থানরত রাতইল ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতাকে মারধর করা হয় এবং তাদের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যায়।
এ ঘটনায় মামলায় ১০৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাফিছুর রহমান বলেন, বিএনপির দুই নেতাকে মারধর, তাদের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নামে সড়কে বিক্ষোভ করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ/আরএন