
ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, তারা সেই কাজ নিরপেক্ষভাবে না করে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তালিকা প্রণয়নে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের এক সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তালিকা প্রণয়নের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তা রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।’
এর আগে রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের জবাবে একাত্তরের শহীদ পরিবার ও গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, এ লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ব্যক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের দলীয়করণমুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের পবিত্র দায়িত্ব রয়েছে। অতীতে যেভাবে তালিকা প্রণয়ন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল, সেই ভুল থেকে বেরিয়ে এসে আমরা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নের চেষ্টা করছি।’
এদিন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত সাতটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের মধ্যে তিনি তিনটি প্রশ্ন এবং সেগুলোর সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।