পাবনার ঈশ্বরদীর একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকার প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুরে ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এক পাল্টাসংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মইনুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে উপজেলার ছলিমপুরের জগ্ননাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে 'দলের বিতর্কিত' এক ব্যক্তিকে প্রধান অতিথি করায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এতে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় বিদায় অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনার জন্য একটি পক্ষ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অভিযুক্ত করে সোস্যাল মিডিয়ায় নানা কুৎসা রটাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেও হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচারণা চালানো হয়।
এই অপপ্রচারের জন্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও তার দলীয় অনুসারীদের দায়ী করেন।
সংবাদ সম্মেলন তারা জানান, অতীতে এই নেতা বিএনপিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে ব্যবসা বাণিজ্য করেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে আসীন হন এবং আওয়ামী লীগের এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলুকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এবারের সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেন। যেকারণে বিএনপির প্রার্থী হেরে যান। ফলে দলীয় প্রার্থী হেরে যাওয়ার তখন থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করে আসছে। দলের মধ্যে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক দিন আগে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম সরদারের প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়। এ খবর শুনে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পরে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিদায় অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম ও তার অনুসারীরা সিনিয়র নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য রটাচ্ছেন।
জনাকীর্ণ এই সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক জিয়াউল আহসান সন্টু সরদার, দাশুড়িয়ায় আব্দুস সালাম সুলভ মালিথা, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মুকুল, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ওহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলম প্রামাণিক প্রমুখ।
এদিকে বুধবার (১ জুলাই) ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি'র নাম ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে স্কুল শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ও স্কুলে হামলার ঘটনায় দলের সিনিয়র নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে তার তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়। এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারী ও স্কুলের দাতা সদস্য ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় একটি পক্ষ।
বিষয়টি সম্পর্কে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সিরাজুল ইসলাম সরদার এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা ৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থীতা জমা দেন। পরে অবশ্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও সিরাজুল ইসলাম সরদারকে নির্বাচনে পাবনা- ৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর কোনো অনুষ্ঠানে ভোট চাইতে দেখা যায়নি। এ অবস্থায় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রার্থী হেরে যান। এরপর থেকে হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিরাজুল ইসলাম সরদারের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে।
কেএমএইচ/এসআর