কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের গলাছিরা তিন মোয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের আড়ালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং মূল্যবান বনজ গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, চক্রটি কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। অভিযোগের পর বন বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে।
স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের টৈটং বনবিটের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সড়ক ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বনজ গাছ পাচার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে কাটা পাহাড়ের ঢাল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্থানীয়দের ভাষ্য, বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও বসানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আনিসুর রহমান সওদাগর, আব্দু রহিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মদদে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, টৈটং বনবিট কর্মকর্তা আবদুল মোতালিব মুবিনের সহযোগিতায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একটি সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দেলোয়ার হোসেন রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সরেজমিনে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে টৈটং বনবিট কর্মকর্তা আবদুল মোতালিব মুবিন বলেন, পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ কিংবা তদন্তের বিষয়টি আমার জানা নেই।
পরিবেশবিদদের মতে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ছে, বন উজাড় হচ্ছে এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
এনইউ/আরএন