বরগুনার তালতলী উপজেলায় গাছ কাটার সময় গাছের নিচে চাপা পড়ে মো. রুবেল খা (৪০) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের জাকির তবক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রুবেল খা উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের চামোপাড়া গ্রামের জুলমত খার ছেলে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবগী ইউনিয়নের জাকির তবক গ্রামের সাদেক সিদ্দিকের কাছ থেকে কয়েকটি গাছ কিনেছিলেন গাছ ব্যবসায়ী চান মিয়া। গাছ কাটার দায়িত্ব পান শ্রমিক জুলমত খা এবং তার দুই ছেলে রুবেল খা ও রহিম খান। বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ কাটার কাজ চলাকালে গাছের চারপাশের অংশ কেটে ফেলার পর পুকুরে পড়ে থাকা ডালপালা সরাচ্ছিলেন রুবেল। এ সময় হঠাৎ গাছটি তার ওপর ভেঙে পড়ে। গাছের একটি বড় ডাল তার পেটে বিদ্ধ হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা জুলমত খা বলেন, “একসঙ্গেই কাজে গিয়েছিলাম। আমার চোখের সামনে ছেলেটা এভাবে চলে যাবে, কোনোদিন ভাবিনি।”
নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, “সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে যেতে নিষেধ করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, বিকেলে কাজ শেষে ফিরে আসবেন। কে জানত, সেটাই শেষ দেখা হবে। আমার দুই সন্তান বাবাকে খুঁজছে, আর আমি সন্তানসম্ভবা। এখন সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না।”
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি গাছ কাটার সময় ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা বলে জানা গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহত রুবেল খার অসহায় পরিবার, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই সন্তানের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এইচএম/ এসআর