কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নদ-নদীর অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল। অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তীরবর্তী এলাকার মানুষ।
রোববার দুপুরের পর থেকে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, শংকোষ ও ফুলকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সময় যত গড়িয়েছে, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ততই পানির উচ্চতা বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি এবং পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একইভাবে গঙ্গাধর, শংকোষ ও ফুলকুমার নদীর পানিও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমবার রাত ১টার পর থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বামনডাঙ্গার তেলিয়ানীকুটি, বড়মানী ও মুড়িয়াহাট এলাকায় দুধকুমার নদীর কূল উপচে তীব্র স্রোতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। ইতোমধ্যে নদ-নদীর অববাহিকার চরাঞ্চলীয় বল্লভেরখাসের ফান্দের চর, বামনডাঙ্গার বড়মানী, তেলিয়ানী, মুড়িয়াহাট, চর লুছনি, উত্তর কুটির চর, দক্ষিণ কুটির চর, শামছুলের চর, কেদারের চর, বিষ্ণুপুর, কাচাকাটার ধনিরামপুর, শোলমারি, নুনখাওয়ার চর কাপনা, কালিকাপুর, চর পাটতলা, ব্যাপারীর চর, নারায়ণপুরের পদ্মারচর, ঝাউকুটি, মাঝিয়ালী, মীরকামারীসহ অনেক চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বহু রাস্তা-ঘাট।
বামনডাঙ্গার আয়নালের ঘাট এলাকার আব্দুল ওহাব, অলিদ হাসান, ইমান আলী, মাঝিয়ালীর আলী হোসেন এবং শোলমারীর জিয়াউল হক জানান, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বন্যা দেখা দেবে। তখন তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। পাশাপাশি রোপা আমনের বীজতলা নিয়েও তারা শঙ্কিত।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।
কেএস/আরএন