প্রতিদিনের মতো আজও গুমানি নদীর দুই তীরে একটি সেতুর অপেক্ষা। চলনবিলের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এই নদী নাটোরের গুরুদাসপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এবং পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নিত্যদিনের চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যুগের পর যুগ ধরে একটি সেতুর দাবিতে অপেক্ষা করছেন এ জনপদের বাসিন্দারা।
কাছিকাটা দাসপাড়া নিশিবাড়ি ঘাট থেকে বিলব্যাসপুর পর্যন্ত নদীর এই অংশটি তিন উপজেলার সাতটি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের পথ। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন খেয়া নৌকায় নদী পারাপার করতে হয় তাদের। স্থানীয়দের অর্থায়নে নিয়োজিত মাঝি ময়লাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পারাপার করালেও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসলাম আলী ও দবীর উদ্দিন বলেন, একটি সেতুর অভাবে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও রোগী—সবাইকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিলব্যাসপুর গ্রামের বাসিন্দা সালাম সরকার বলেন, একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, তিন উপজেলার অর্থনীতি, শিক্ষা ও কৃষিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী জানান, বিলব্যাসপুর ও রানীগ্রাম মৌজার মধ্যবর্তী আত্রাই নদীতে রাবারড্যাম নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, গুমানি নদীর ওপর একটি সেতুর পাশাপাশি রাবারড্যাম নির্মাণ করা গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধাও নিশ্চিত হবে। এতে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। প্রকল্পটি বর্তমানে একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, গুমানি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি। রাবারড্যাম প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেতু নির্মাণের পথও সুগম হবে। তিনি প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
গুমানি নদীর বুকে এখনো ভেসে চলে একটি ছোট্ট খেয়া নৌকা। সেই নৌকার সঙ্গে ভেসে চলে তিন উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নও। তাদের প্রত্যাশা, একটি সেতুই বদলে দেবে এ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যতের চিত্র।
এমএ/আরএন