তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, উজানে আবার পানি বাড়লে নতুন করে বন্যা ও ভোগান্তি দেখা দিতে পারে। এদিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের একটি গুচ্ছ গ্রামে নদীভাঙনের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৯৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফা তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ থেকে ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়। বর্তমানে নদীর পানি কমতে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করা পানিও ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ জুন বিকেলে তিস্তার পানি এক সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এরপর কয়েকদিন পানি ওঠানামা করলেও সোমবার বিকেলে তা আবার বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।
খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, “গত রাতে নদীর পানি বেড়ে পাশের ফসলি জমিতে পানি ঢুকে আইলসহ অনেক অংশ তলিয়ে যায়। এখন পানি কমায় জমি থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। তবে আবার পানি বাড়লে নতুন করে দুর্ভোগ শুরু হবে।”
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, “পানি কমে যাওয়ায় বর্তমানে ইউনিয়নের কোনো পরিবার পানিবন্দি নেই। তবে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছ গ্রামে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।”
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, “পানি কমে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে আমার ইউনিয়নে কোনো পরিবার পানিবন্দি নেই।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “সোমবার বিকেল ৩টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত গুচ্ছ গ্রাম পরিদর্শনে যাচ্ছি। সরেজমিনে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যদিও তিস্তার পানি কমে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে, তবে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের আশঙ্কা, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে যে কোনো সময় পরিস্থিতির আবারও অবনতি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবিড় নজরদারি ও আগাম প্রস্তুতির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমআইএস/এসআর