সরকারি চাকরির আশায় দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সফল না হয়ে কৃষিকেই জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার দুই শিক্ষিত তরুণ। ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী কদবেলের বাগান। কয়েক বছরের পরিচর্যার পর সেই বাগান থেকে মিলছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। উপজেলার প্রথম বাণিজ্যিক কদবেল চাষি হিসেবে তারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন।
উদ্যোক্তা দুই ভাই হলেন রানীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারদিঘী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আফজাল হোসেনের ছেলে আনিছুর রহমান পাইলট ও আতীকুজ্জামান সবুজ।
আনিছুর রহমান পাইলট জানান, ২০১৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর সরকারি চাকরির জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করেন। কিন্তু বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় চাকরি না পেয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ খুঁজতে শুরু করেন। এ সময় বাড়ির পাশের একটি পুরোনো কদবেল গাছ থেকে ফল বিক্রি করে প্রথম বছর প্রায় পাঁচ হাজার এবং পরের বছর প্রায় আট হাজার টাকা আয় করেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাণিজ্যিকভাবে কদবেল চাষের পরিকল্পনা নেন।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ছোট ভাই আতীকুজ্জামান সবুজ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রায় তিন বিঘা জমিতে কদবেলের বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়। সবুজ জানান, রাঙামাটি থেকে ‘বারি কদবেল-২’ জাতের ১৫০টি কলমের চারা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি আরও ১০০টি দেশি জাতের বীজের চারা রোপণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় নিয়মিত পরিচর্যার ফলে বাগানটি এখন বাণিজ্যিকভাবে ফলন দিচ্ছে।
আনিছুর রহমান পাইলট বলেন, “গত বছর বাগানের ৭০টি গাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার টাকার কদবেল বিক্রি করেছি। চলতি বছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছি। বাগান গড়ে তুলতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সব গাছে পূর্ণাঙ্গ ফলন শুরু হলে বছরে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা আয় সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কদবেল চাষে খরচ কম এবং পরিচর্যাও সহজ। কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে শিক্ষিত বেকার তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে কৃষিতে এগিয়ে আসা উচিত।”
রানীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রানীনগরে এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কদবেল চাষ হচ্ছে। এ অঞ্চলের মাটি, জলবায়ু ও আবহাওয়া কদবেল চাষের জন্য উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে এ ফলের চাষ লাভজনক হতে পারে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে পুষ্টিকর ও দেশীয় ফলের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ভেষজ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল হিসেবে কদবেলের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ ও কার্যকর বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে কদবেল উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফলে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে দুই ভাইয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষিত বেকার তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
কেকেএইচ/এসআর