গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি–দমদমা সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় এক কিলোমিটার অংশ দেবে গেছে। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধারাবাহিকভাবে সূতি নদীর দিকে ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
শ্রীপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ জানান, সড়কটির ক্ষতির প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কারিগরি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যে কারণ উঠে আসবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ শতাংশ অর্থ, প্রায় এক কোটি টাকা, সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজনে ওই অর্থ ব্যবহার করে সড়কটি সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে সড়কের বড় একটি অংশ দেবে গেছে এবং নদীতীরে স্থাপিত সুরক্ষা ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স সালাম ট্রেডার্স কাজটির দায়িত্ব পায়। ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণ শেষ হয় ২০২৬ সালে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “সড়কের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র কয়েক মাস আগে। হঠাৎ করেই এটি দেবে যেতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।”
চিনাশুকানিয়া গ্রামের রহমান মিয়া বলেন, “কাজের শুরু থেকেই নির্মাণকাজ নিম্নমানের মনে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তখনই প্রতিবাদ করেছিলাম।”
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, “ভালোভাবে নির্মাণ করা হলে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক দেবে যাওয়ার কথা নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম বলেন, “সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। যতবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ততবারই আমরা মেরামত করে দেব।”
এদিকে, সড়কের আকস্মিক ধসে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে স্থায়ী সমাধান এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এনএএস/এসআর