ভোলার চরফ্যাশনে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গোপনে দাফনের অভিযোগ উঠেছে তার ভগ্নিপতি ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করলেও আদালতের নির্দেশের ২০ দিন পরও থানায় মামলা রুজু না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিহত সলেমান (৩৮) তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর চাচড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. আলমের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সলেমানের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে চিকিৎসার কথা বলে তাকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তার লাশ গোপনে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম ভগ্নিপতি বশির উল্যাহ মহাজনসহ পাঁচজনকে আসামি করে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহণ করে বিচারক মো. আরিফ উল ইসলাম নির্দেশ দেন, সলেমানের মৃত্যুর ঘটনায় পূর্বে কোনো মামলা রুজু না হয়ে থাকলে দক্ষিণ আইচা থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে তা গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে।
রুমা বেগম সোমবার (২৯ জুন) সংবাদকর্মীদের বলেন, “আদালতের নির্দেশের ২০ দিন পার হলেও এখনো থানায় মামলা রুজু হয়নি। এতে মামলার ভবিষ্যৎ ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।”
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন মামলাটি দায়ের হওয়ার দিনই আদালত দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং আদেশ ও নালিশের অনুলিপি থানায় পাঠানোর নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “গত শনিবার (২৭ জুন) আমরা আদালতের আদেশের কপি পেয়েছি। ওসি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি দায়িত্বে ফিরে এলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত মামলা রুজু ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
এসআর