মৎস্য সম্পদকে বাঁচাতে খাল-বিল, নদী-নালার পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা অব্যবহৃত খাল-বিল ও জলাশয়গুলো সংস্কার করে মাছ চাষের জন্য স্থানীয় তরুণদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নতুন শিল্প উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ ফান্ড গঠন করেছে, যেখান থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান (ঋণ নয়) দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার দুপুর ২টায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এতে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক তুলে দেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেছেন, “পরিবেশ যেকোনোভাবেই হোক, যেভাবেই হোক, যে কারণেই হোক আমরা খেয়াল করে দেখছি-আমাদের খালবিল নদী-নালা, যে সকল হাওর-বিল যে সকল আছে; সবগুলোর পরিবেশ ধীরে ধীরে আমাদের ব্যবহারকৃত বিভিন্ন যে আবর্জনা আছে-বিভিন্ন রকম টিস্যু পেপার, প্লাস্টিক পানির বোতল এসবের কারণে ধীরে ধীরে এই জলাশয়গুলোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
“আমরা যদি সত্যিকারভাবে সচেতন হই, আমরা যদি নিজেদের পরিবার রক্ষা করতে চাই এবং একই সাথে আপনারা এখানে যারা উপস্থিত আছেন, অধিকাংশ মানুষ হয়তো মৎস্য পেশার সাথে জড়িত এবং মাছকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই-আসুন, একই সাথে আমাদের পরিবেশের প্রতিও খেয়াল রাখি।”
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ হয়তো মৎস্য পেশার সাথে জড়িত এবং মাছকে যদি আমরা বাঁচাতে চাই, আসুন আমাদেরকে আমাদের পরিবেশের প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে, আমাদেরকে আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে।
“আমরা যদি পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি, আমরা যেমন একটি সুস্থ পরিবেশের মধ্যে বসবাস করতে পারব, আমাদের সন্তানেরা সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। একইভাবে আমাদের মৎস্য, আমাদের পশু-সকল কিছু আমরা একটি সুস্থ পরিবেশের মধ্যে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”
মাছ চাষের ফলে পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “মাছ চাষ, মাছ ধরা, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিক্রয় এই পুরো প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতে মৎস্য খাতের অতুলনীয় ভূমিকা রাখছে।
“নদীমাত্রিক বাংলাদেশে পুকুর, বিল, হাওর, বাওর এবং অন্যান্য জলাশয় কাজে লাগিয়ে কিংবা অল্প জমি ব্যবহার করে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
“এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি সরকার সমগ্র বাংলাদেশে এরকম বহুত জলাশয় আছে, হাওর আছে, বিল আছে, পুকুর আছে-যেগুলি পড়ে রয়েছে বিনা কারণে; আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এগুলোকে সংস্কার করার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা এগুলোতে মাছের পোনা ছাড়তে চাই এবং যেই পুকুরগুলো বা যেই হাওর-বিলগুলো যে এলাকার, সেই এলাকার তরুণ যারা আছেন-তাদের মধ্যে সুন্দরভাবে আমরা এটা বণ্টন করতে চাই যাতে করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে এই উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকার ফলে আমরা যদি পরিকল্পিতভাবে পরিশ্রম করি, এখান থেকে বহু মানুষের কর্মসংস্থান যেমন হবে; একই সাথে আমরা আরো অনেক বেশি পুরোমানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।
“যারা মৎস্য উৎপাদন এবং বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিঃসন্দেহে আপনারা জানেন মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে খুলনা অঞ্চলে তিনশটি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ হাজার ঘেরে উৎপাদন গড়ে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তারেক রহমান বলেন, “ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ কিংবা একটি অর্থনৈতিক সম্পত্তি নয়, এটি বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবেও স্বীকৃত। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ, যা দেশজ জিডিপির এক শতাংশেরও বেশি।
“২০০৩-০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় ইলসা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছিল; যার ফলে পরবর্তীতে ইলিশ মাছের উৎপাদন সমগ্র বাংলাদেশে অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার মৎস্য, পশুসম্পদ এবং জলজ খাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। কারণ আমরা যদি আমাদের কালের ঐতিহ্য দেখি, অর্থনীতিকে দেখি, আমাদের দেশের বহু কোটি মানুষ এই পেশাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত।
“মৎস্য সেক্টরের বিকাশ এবং মৎস্য চাষি এবং জেলেদের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে এবং এরই অংশ হিসেবে মৎস্য চাষিদেরকে কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে এবং হয়েছে এর মধ্যে। একই সঙ্গে জেলেদের পরিচয়পত্র প্রদান ও নিবন্ধন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রথমবারের মত সুন্দরবন এবং হাওর অঞ্চলে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন জেলেদের ভিজিএফের আওতায় আনা হয়েছে।”
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ কনক।
টিআইএস