সাধারণ নাগরিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কিংবা বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সুধীসমাজে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পৌর প্রশাসকের সভাপতিত্বে আয়োজিত বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মূলত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল না। এতে বাজেট প্রণয়ন ও ঘোষণার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার দুপুর ১২টায় পৌরসভা কার্যালয়ের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে বাজেট ঘোষণা শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। মাত্র ৪০ মিনিটের এ অনুষ্ঠানে নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ২৯ হাজার ৯শত টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন কিংবা সাধারণ পৌরবাসীর অংশগ্রহণ ছিল না। উপস্থিত ছিলেন কেবল পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একজন সাংবাদিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বাজেট প্রণয়নের আগে নাগরিক মতামত গ্রহণ ও উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ থাকার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে পৌরবাসী কার্যত পুরো প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন।
নবীনগর পৌর বিএনপির সভাপতি ওবায়দুল হক ভিপি লিটন বলেন, “বাজেট ঘোষণার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। কী বাজেট হয়েছে তাও জানি না। কমিউনিটির প্রতিনিধিদের না জানিয়ে বাজেট ঘোষণা করায় এটি স্বচ্ছ হয়নি বলে আমি মনে করি।”
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আজ বাজেট ঘোষণা হয়েছে সেটাই আমি জানতাম না। একজন পৌর নাগরিক হিসেবে এটি আমার অধিকার ক্ষুণ্নের শামিল।”
নবীনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী গোলাম হোসেন খান টিটু বলেন, “বাজেট ঘোষণা হয়েছে, আমি জানতাম না। কেউ আমাকে দাওয়াতও দেয়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। তবে উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মাসুদ রানা বলেন, “জাতীয় সংসদে উন্মুক্তভাবে বাজেট উপস্থাপন করা হলেও পৌরসভার বাজেট প্রায় গোপনীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পৌরবাসীর করের টাকায় পৌরসভা পরিচালিত হয়, তাই বাজেট জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।”
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ মকবুল হোসেন বলেন, “কাউকে না জানিয়ে বাজেট ঘোষণা করা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।”
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও ইউএনও রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। টিএলসির মিটিং ছিল, সেখানে প্রায় ৫০ জনের মধ্যে ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। বাজেট ঘোষণায় তারাই অংশ নেন।”
স্থানীয়দের মতে, উন্মুক্ত পরিবেশে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাজেট ঘোষণা করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ত। তারা ভবিষ্যতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় বাজেট প্রণয়ন ও ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
এমএসপি/ এসআর