খুলনা মহানগরীর উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোড এলাকায় মমতাজ পারভীন (৫৬) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দাবি, তার ব্যবহৃত কিছু মূল্যবান সামগ্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালিশপুর কবরস্থান রোডের বালুরচর এলাকার একটি তিনতলা ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত মমতাজ পারভীন ওই এলাকার বাসিন্দা মো. সাইদুর রহমানের স্ত্রী।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যরা নিজ কক্ষে মমতাজ পারভীনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে খালিশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিআইডি ও ক্রাইম সিন ইউনিটকে অবহিত করা হয়। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মরদেহের শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে কিছু মূল্যবান সামগ্রী খুঁজে না পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, “সিআইডি ও ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
এসএমএস/এসআর