নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত চুনা ও ঢালাই কারখানার কারণে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার—এমন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে এসব কারখানা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগের তীর তিতাস গ্যাসের মেঘনা ঘাট শাখার ম্যানেজার প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহার দিকে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক চুনা ও ঢালাই কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানার বেশিরভাগই সরকারি গ্যাস লাইনের অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পরই আবার চালু হয়ে যাচ্ছে কারখানাগুলো।
তিতাস সূত্রে জানা গেছে, এসব কারখানায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর ফলে সরকারের প্রায় এক কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্প কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপজেলার পিরোজপুর, মোগরাপাড়া ও পৌরসভা এলাকায় অবৈধ চুনা ও ঢালাই কারখানার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অধিক মুনাফার কারণে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট লোকজন এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অবৈধ কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। তিতাস কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা স্থাপনা অপসারণ করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো আবার চালু করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পৌরসভার দিঘিরপাড় এলাকায় একটি অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একজনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, চুনা ও ঢালাই কারখানার ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এ খাতে বিনিয়োগ করছেন। তাদের দাবি, অনেক সময় অভিযানের আগাম তথ্যও কারখানা মালিকদের কাছে পৌঁছে যায়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, “আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কারখানা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফায়ার সনদ দেওয়া হয় না।”
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সোনারগাঁও অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, স্থাপনা উচ্ছেদ এবং মামলা দায়েরের পরও কিছু ক্ষেত্রে পুনরায় এসব কারখানা চালু হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা ঘাট শাখার ম্যানেজার প্রকৌশলী সুরজিত কুমার সাহা বলেন, “চুনা ও ঢালাই কারখানার মালিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজসের অভিযোগ সত্য নয়। অর্থ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। অবৈধ কারখানা বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মেঘনা অঞ্চলের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনেক অবৈধ কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। সোনারগাঁওয়েও দ্রুত এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই হওয়া প্রয়োজন।”
এইচএমআর/এসআর