📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
কালীগঞ্জের সাইফুল হত্যা রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
X Advertisement

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের আলোচিত সাইফুল ইসলাম (৪৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিহত সাইফুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আলফাজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তুমলিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তর এলাকায় বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে জনৈক করিমের বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১ জুন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা সাইফুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে এবং মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে তার মুখমণ্ডল বিকৃত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর ৩ জুন কালীগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা (নং-০২) দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত করেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহীম শেখ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার মামলাটির রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) দেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ডিবির এসআই মো. আবুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, স্থানীয় সূত্রের তথ্য এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালায়। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রেজাউল করিম (৫০), মো. নাঈম মিয়া (২৫) এবং মো. আবু তাহেরকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবু তাহের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে রেজাউল করিমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিশেষ করে মাদক-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও ঝগড়া হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, রেজাউল করিম ও আবু তাহের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব বিরোধের জের ধরে রেজাউল করিম, নাঈম মিয়া ও আবু তাহের পরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামকে নদীর তীরবর্তী একটি কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে ২ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে কালীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তরসোম এলাকার বেড়িবাঁধ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরএস/এসআর
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; 01550707297 Advertisement: 41053012; 01550707296

E-mail: online@dailyobserverbd.com mailobserverbd@gmail.com
🔝