পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠি একে নৈশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। প্রতিমাসে সরকার থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হলেও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা পাঠদানের সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা ছিল। সেখানে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পাঠদানের ন্যূনতম পরিবেশ পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল ও বৈদ্যুতিক ফ্যানও ছিল না। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাও দেখাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর মাঝে মাঝে কয়েকজন এসে প্রতিষ্ঠানটি খোলেন, তবে সেখানে কখনো নিয়মিত পাঠদান হতে দেখেননি তারা। তাদের দাবি, শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে দিনে কাজ করা মানুষদের অবসর সময়ে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম নেই।
জানা গেছে, সাবেক পটুয়াখালী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল হক খান ১৯৮৫ সালে শ্রমজীবী মানুষের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এমপিওভুক্ত কর্পূরকাঠি এ কে নৈশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টি বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরিচালনার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পরে একজন সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ের সামনে আসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নামে সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয় হলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো জরাজীর্ণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বাস্তব চিত্র নেই।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক এসএম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের কাছে ছুটির আবেদন দিয়ে ঢাকায় গেছেন। আমরা রাত ৮টা ১৫ মিনিটে স্কুল থেকে বের হয়েছি। দপ্তরি স্কুলের চাবি নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। আমাদের মোট চারজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী রয়েছেন। দপ্তরি মারা যাওয়ায় আমরা পার্ট-টাইম ভিত্তিতে একজন দপ্তরি নিয়োগ দিয়েছি। বিদ্যালয়ে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আজ ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। দপ্তরি চাবি নিয়ে যাওয়ায় হাজিরা খাতা দেখানো সম্ভব হয়নি।’
প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘বিল-সংক্রান্ত কাজ ও চিকিৎসার জন্য আমি ঢাকায় এসেছি। ছুটির আবেদন ফাইলে রেখে এসেছি। আমার চাকরির মেয়াদও প্রায় শেষ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চেয়ার-টেবিল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি, সব ভেঙে গেছে। এছাড়া লাইট, ফ্যান ও বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে গেছে।’
এএস/এসআর