রাজশাহীর বাঘায় গত ১৮ মে দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা স্বপন বেপারীকে (৪০) মাথায় গুলি করে তুলে নিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ২৩ দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ হওয়া স্বপনের।
স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারীর দাবি, স্বপন বেঁচে নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালি চরে ওই রাতের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন নিচপলাসী চরের শুকুর আলীর ছেলে জিয়াউল হক (৩৫)। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। ঘটনার পর ২০ মে স্বপন বেপারীর বাবা সিদ্দিক বেপারী বাদি হয়ে বাঘা থানায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তবে ২৩ দিনেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
পরিবার বলছে, এটি পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্বপনের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে তার বাবা সিদ্দিক বেপারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, 'আমার সামনে গুলিবিদ্ধ আহত স্বপনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে এ বিষয়ে জানি না। তবে স্বপন বেঁচে নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের লাশটা দেখতে পেলাম না।'
সিদ্দিক বেপারী আক্ষেপ করে বলেন, 'আমার দুঃখ ছেলের লাশ পেলাম না। মারা গেছে ছেলে। আমি বলেছিলাম, আমার ছেলেটার লাশটা দিয়ে যান। আমি কোনো মামলা করব না, ছেলেকে দেখে দাফন করে দেব। কিন্তু লাশ না দিয়ে তারা স্পিডবোডে করে নিয়ে চলে গেছে। এরপর থেকে ছেলের কোনো খোঁজখবর পাইনি।'
তিনি বলেন, 'ছেলে কিছু ঋণ করছিল। বয়স্ক মানুষ, কিভাবে কিস্তি দেব। একটি এনজিওর তিনটি কিস্তির মধ্যে, দুইটা কিস্তি শোধ হয়েছে। একটা শোধ হয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'কিস্তির লোক বলছিল স্বপন যদি মারা যায়, তাহলে একটা পরিচয় এনে দেন। তাহলে কিস্তি আর দিতে হবে না। এটা কেউ দেয় না, কবরস্থানের কমিটিও দেয়নি। এ নিয়ে আমি পাগলের মতো ঘুরছি।'
সিদ্দিক বেপারী বলেন, 'আরেক জায়গা থেকে ৬০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়েছিল। এখনও ছয়টা কিস্তি বাকি আছে। প্রতি কিস্তি ৬ হাজার টাকা। স্বপন যাদের থেকে টাকা পেত, তারা স্বীকার করে না। দু'জন স্বীকার করেছে, একজনের কাছে ২০ হাজার ও আরেকজনের কাছে ২ হাজার টাকা। কিন্তু তারাও টাকা দেয়নি।'
বাবার দাবি, লাশটা যদি পেতাম, তাহলে মনে শান্তি পেতাম। অনেকে বলে তোমার ছেলে মারা যায়নি, চিকিৎসা নিচ্ছে। ছেলে এতোদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে? এটা মিথ্যা কথা, আমি তো বুঝি। তারা শান্তনা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, 'স্বপনকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।'
এএইচ/এমএ