সাভারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস থেকে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার দরুইন গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে মো. রাজিব মিয়া ওরফে রাজু (২৩), কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের নাসির মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া (২২) এবং জেঠুয়ামুড়া গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (৩২)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাদক পরিবহনের তথ্য পেয়ে শুক্রবার রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার ভাঙা ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশ সর্বদা তৎপর। মাদক কারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন যে, তারা মাইক্রোবাসটি বিশেষভাবে পরিবর্তন (মডিফাই) করে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক পাচার করে আসছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা মাইক্রোবাসটির (ঢাকা মেট্রো-চ ১৪-১০২৪) আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ টাকা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম আসামির বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ পাঁচটি এবং তৃতীয় আসামির বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে।
শনিবার দুপুরে তিন আসামিকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওএফ/এসআর