রাজধানীর তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া (আলিয়া মাদ্রাসা)—মঙ্গলবার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন পক্ষের শিক্ষার্থী সংগঠনের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। একই দিনে বরিশালের বিএম কলেজ ক্যাম্পাসেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এছাড়া সোমবার রাতের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।
সংঘর্ষপ্রবণ ক্যাম্পাসগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল কলেজের আশপাশে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলেও ছাত্রশিবিরের কাউকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন। গুরুতর আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের জেরে ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে, সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রদর্শনীতে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হিসেবে উল্লেখ করা কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে জামায়াতের কয়েকজন নেতার ছবি সংবলিত ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়ে পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। মঙ্গলবারও দিনভর বেরোবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে।
আরএন