নাইজারের উত্তরাঞ্চলে সাহারা মরুভূমির এক প্রত্যন্ত এলাকায় ট্রাক বিকল হয়ে যাওয়ার পর তৃষ্ণায় অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েক দিন ধরে পানি ছাড়া মরুভূমিতে আটকে থাকার পর এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (৬ জুন) আগাদেজ অঞ্চলের গভর্নরেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, নিহত সবাই নাইজারের নাগরিক। তাঁরা মালিতে অবস্থান করছিলেন এবং পবিত্র ঈদুল আজহায় পরিবারের সঙ্গে উদ্যাপনের উদ্দেশ্যে নিজ দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সাহারা মরুভূমির চরম বৈরী পরিবেশে তাঁদের পানির মজুত ফুরিয়ে যায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আলজেরিয়া-নাইজার সীমান্তের প্রধান পারাপার কেন্দ্র আসামাকা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং মালির সীমান্তসংলগ্ন এক দুর্গম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকটি বিকল হয়ে যাওয়ার পর চালক, তাঁর সহকারী এবং যাত্রীরা মিলে সেটি মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা দীর্ঘ সময় মরুভূমিতে আটকা পড়ে থাকেন।
তীব্র গরম, পানির অভাব এবং আশপাশে কোনো সহায়তার ব্যবস্থা না থাকায় একে একে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে গণকবরে দাফন করেন।
তবে এই ট্র্যাজেডির মধ্যেও দুজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। তাঁরা মরুভূমির ভেতর প্রায় ৫০ কিলোমিটার হেঁটে একটি পানির উৎস খুঁজে পান। পরে সেখান থেকে আসামাকায় পৌঁছে কর্তৃপক্ষকে পুরো ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেন।
আগাদেজ অঞ্চলের গভর্নর জেনারেল ইবরা বুলামা ইসার পাঠানো একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পারে, ট্রাকটি মালির তালহান্দেক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। শহরটি নাইজার সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে ট্রাকটি কী কারণে বিকল হয়েছিল বা যাত্রীরা কত দিন সেখানে আটকে ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বর্ণনা করে গভর্নরেট জানায়, বিকল ট্রাকটির আশপাশে বহু মানুষের নিথর দেহ পড়ে ছিল, যা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
উল্লেখ্য, সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চল আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করা শরণার্থী ও অভিবাসীদের একটি পরিচিত ট্রানজিট রুট। প্রতিবছরই তীব্র গরম, পানির সংকট ও কঠিন পরিবেশের কারণে এ পথে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
আরএন