ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া নাশকতা মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার একাধিক দল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের এজাহারভুক্ত ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দোহার থানার অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দোহার থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সক্রিয় সদস্য আব্দুল কুদ্দুস (৫৭), মুকসুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন ভূঁইয়া (৫০), বিলাসপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য মো. খলিল শিকদার (৩৬), দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম হানিফ (৩৫), বিলাসপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক মোল্লা (৫০), বিলাসপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মো. বিশা মাতবর (৬০) এবং দোহার উপজেলা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মো. বায়েজিদ হোসেন বাদল চৌকিদার (৫৯)। সকালে তাদের দোহার থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন আসামিরা।
অন্যদিকে, নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় কৈলাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নজির চৌধুরী (৪৫), আগলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এস এম আক্তার হোসেন (৫৫), বক্সনগর ইউনিয়ন তাঁতীলীগের আহ্বায়ক মো. নুরুল ইসলাম (৬০), বান্দুরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর খোকন (৪০) এবং কৈলাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য লিটন মাদবর (৪৯)।
নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, ২ জুন রাত ১০টা থেকে ৩ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই শুভ আহমেদ, এসআই দেলোয়ার, এসআই মনিরুজ্জামান ও এএসআই তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল অংশ নেয়। অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলায় তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
দোহার সার্কেলের জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এআর/আরএন