ময়মনসিংহ নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া এলাকায় ছুরিকাঘাতে রানা মিয়া (৩৩) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় জামায়াত নেতার ছেলেসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), মৃত আলী হোসেনের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪০), তাঁর ছেলে হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩) এবং চাঁন মিয়ার ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪)। তাঁরা সবাই চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
নিহত রানা মিয়া একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে মধ্যপাড়া এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় রানা মিয়া তাঁর ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজন মাহাবুল অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা বিএনপির পক্ষে কাজ করে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পর থেকেই জামায়াত নেতা মফিদুল ইসলাম মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। তাঁর দাবি, সোমবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ার পর বিষয়টি আপাতত মীমাংসা হলেও মঙ্গলবার বিকেলে মফিদুল ইসলাম মাস্টার ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় মফিদুলের ছেলে মাহিন ছুরি দিয়ে রানার বুকে আঘাত করেন। এ ঘটনায় আশাদ, মোফাজ্জল, শাহান, মুনসুর আলী, শাকিল ও দিনি মিয়াসহ অন্তত ছয়জন আহত হন।
নিহতের ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বিনা কারণে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এ ঘটনার পর জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমি বা আমার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসএস/আরএন