নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাসহ একাধিক মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. ছালেহ উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা।
মঙ্গলবার দুপুরে সুবর্ণচর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছালেহ উদ্দিন দাবি করেন, তিনি বিএনপি পরিবারের সদস্য হওয়ায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার অভিযোগ, তার সাবেক কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা করছেন।
ভুক্তভোগী ছালেহ উদ্দিন উপজেলার চরজুবলী মধ্যপুকুর এলাকার এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম একই এলাকার উত্তর কচ্ছপিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে ছালেহ উদ্দিন বলেন, পন্টুন ক্রয় ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালি সরবরাহের জন্য জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে তার চুক্তি হয় এবং কাজের জন্য তাকে ৩২ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। কিন্তু জাহাঙ্গীর মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করে তার স্বাক্ষর করা কয়েকটি বিল প্যাড ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ২০২৩ সালের জুন মাসে মাইজদীতে একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করা হয় বলে দাবি করেন ছালেহ উদ্দিন।
তিনি আরও বলেন, “আমার কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই। আমি একজন সাধারণ ছাপ ঠিকাদার। অথচ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নীতিমালার আওতায় মানিচুটের মামলা করে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
ছালেহ উদ্দিনের দাবি, তার পাওনা ২২ লাখ টাকা আদায়ের জন্য তিনি আদালতে মামলা করেছেন এবং পিবিআই তদন্তে তার দাবির সত্যতা মিলেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, উকিল নোটিশ ও রেজিস্টার্ড ডাক ভুয়া ঠিকানায় পাঠিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে একাধিক মামলার কারণে তিনি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও জানান।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
আইইউএস/এসআর