দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ আনোয়ারা–বাঁশখালী–টইটং–পেকুয়া–ঈদমনি–চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুদিনের ‘স্বপ্নের সড়ক’ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর–এর আওতায় প্রকল্পটির ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুত করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রধান যোগাযোগমাধ্যম। আনোয়ারা, বাঁশখালী, টইটং, পেকুয়া, ঈদমনি ও চকরিয়া—এই জনপদগুলোর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির ওপর নির্ভরশীল। যানজট, দুর্ঘটনা ও সময়ক্ষেপণের কারণে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
চার লেনে উন্নীত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিল্পায়ন ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আসবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ যাতায়াত হবে আরও দ্রুত ও নিরাপদ।
এ উন্নয়ন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় কাজ শুরু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয়দের একটি অংশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সালাহউদ্দিন আহমদ–এর প্রতি। তাঁদের দাবি, এই মহাসড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক ছাফওয়ানুল করিম বলেন, নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সালাহউদ্দিন আহমদ সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই তিনি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন, যার ফলাফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এর প্রমাণ হিসেবে চার লেন সড়ক নির্মাণের সরকারি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পাশাপাশি নতুন উপজেলা ও পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়াও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাতামুহুরী উপজেলা থেকে শুরু করে চকরিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি ইউনিয়নে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং নতুন ইউনিয়ন গঠনের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, সব প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হবে।
এনইউ/এসআর