Saturday | 7 February 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Saturday | 7 February 2026 | Epaper
BREAKING: ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের আবার সংঘর্ষ      ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ, অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি      একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন      ব্যাংক লুটেরাদের ছাড় দেওয়া হবে না, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে: জামায়াত আমীর      বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: যা আছে      আমরা বিজয়ী হলে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটবে না: জামায়াত আমির      ঢাকায় হচ্ছে না বিএনপির নির্বাচনি জনসভা      

পটুয়াখালী-২ (বাউফল)

কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা

Published : Sunday, 11 January, 2026 at 3:08 PM  Count : 569

কনকনে শীত উপেক্ষা করে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠছে গ্রামগঞ্জ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রার্থীরা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট ভিক্ষা চাইছেন। 

এবারের নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ছয় জন প্রার্থী মাঠে অবস্থান করলেও শেষ পর্যন্ত দু'জনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন ভোটাররা।

জানা যায়, ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন। এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭৮৪, পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৪৯৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার একজন। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩২৪ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার বেড়েছে ২১ হাজার ৯৫৮ জন। উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন ৮০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সহকারি রির্টানিং অফিসার। ইতিমধ্যে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষককে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর পটুয়াখালী-২ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শহিদুল আলম তালুকদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামী আন্দোলনের মালেক হোসেন, খেলাফত  মজলিসের মুহাম্মদ আইয়ুব হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) মো. হাবিবুর রহমান ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. রুহুল আমীন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটাররা মনে করেন, এখন পর্যন্ত মোট ছয় জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে অবস্থান করলেও মূলত শেষ লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মধ্যে। ভোটারদের মাঝেও এই দুই প্রার্থীকে নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। বর্তমানে গ্রামের প্রতিটি মেঠোপথ বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে শহিদুল আলম তালুকদার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনার জন্য আয়োজিত বিশেষ দোয়া মিলাদে অংশ নিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের উপর সীল মারার জন্য ভোটারদের অনুরোধ করছেন। 

শহীদুল আলম তালুকদার ২০০১ সালে বিএনপির টিকিট নিয়ে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে মাত্র ২৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলেন। 

স্বাধীনতার পর শহিদুল আলম তালুকদার বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দু'বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি ত্রিধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর বিভক্ত বিএনপিকে ঘিরে শহিদুল আলমের বিজয়ের ব্যাপারে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়। 

সম্প্রতি ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বিভক্ত বিএনপির শীর্ষ নেতারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপরই সকল সংশয় ধুয়ে মুছে যায়। এই মুহুর্তে ধানের শীষের পক্ষে বিভক্ত নেতাকর্মীরা সবাই একই ছাদের নীচে অবস্থান করছেন।

শহীদুল আলম তালুকদারের অনুসারিরা মনে করেন, ভোটের মাঠে শহিদুল আলমের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী নেই। ভোটাররা জানেন শহিদুল আলম কতটা জনপ্রিয়। তাই ভোটের দিন মাঠ থেকে ঝড়ের মতো উড়ে যাবে জামায়াত। ২০০১ সালের মতোই ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিজয়ের মুকুট পড়ে পুনরায় সিংহাসনে বসবেন শহিদুল আলম তালুকদার। সবাই ধানের শীষ প্রতীকে সীলমোহর দিয়ে তারেক রহমানের হাতে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনটি উপহার দেবেন সকল শ্রেণির ভোটাররা।

এদিকে, দক্ষ ও প্রবীণ রাজনীতিক শহিদুল আলমের সঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো লড়াইয়ে নেমেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে নবীন হলেও জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভোটের হিসাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক অসংখ্য মামলা মাথায় নিয়ে মাসুদ এলাকায় এসেও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন। অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের পর নির্বাচনী এলাকা বাউফলে তার সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর কর্মতৎপরতা বহুগুন বেড়েছে। 

জামায়াত ইসলামী ও এর অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, শীতবস্ত্র বিতরণ, স্বেচ্ছায় ভাঙা সড়ক  ও সেতু মেরামতসহ নানা কাজ করে তরুণদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মাসুদ। ওয়ার্ড পর্যায়ে ঘরে ঘরে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলের কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইছেন।

স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মনে করেন, ক্লিন ইমেজের নেতা শফিকুল ইসলামের পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। ০৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর শফিকুল ইসলাম মাসুদের কঠোর নির্দেশের কারণে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি, চর দখল, লুটপাট, সহিংসতাসহ বিতর্কীত কর্মকাণ্ড করেনি। তাই শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শফিকুল ইসলাম মাসুদের বিজয় ঠেকানোর সাধ্য কারও নেই। প্রতিটি কেন্দ্রের পরিবেশ নির্বিঘ্ন থাকলে এবং জনগণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিতে পারলে আগামীর সিংহাসনে বসবেন  ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

এই মুহুর্তে বাউফলবাসীর প্রধান সমস্যা বগা ফেরি। দীর্ঘ বছর থেকে বগা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন বাউফলসহ প্রতিবেশী তিন উপজেলার মানুষ। বগা সেতু না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সবাই। এছাড়াও নদী বেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন উন্নয়নের প্রশ্নে অনেক পিছিয়ে আছে। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্মমূখী। সরকারি সেবা পাচ্ছেন নামে মাত্র। বাউফল উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সড়কের বেহাল অবস্থা। পাকা সড়কগুলো খানাখন্দে ভরে গেছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে একাধিক সড়ক। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো জড়াজীর্ণ। 

একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজে অনিয়ম দুর্নীতি হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যেই জড়াজীর্ণ হয়ে গেছে। উপজেলা প্রসিদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র কালাইয়া বন্দরে নেই আধুনিক পাবলিক টয়লেট। ওই বাজারের অন্তত পাঁচটি পয়েন্টে আধুনিক পাবলিক টয়লেট, গাড়ি পার্কিং, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গো-হাট ও ধান হাটে শেড নির্মাণ প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একসময় জামায়াত-বিএনপি জোটবদ্ধ ভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। অথচ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ আসনে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে জামায়াত। আর কে বসবেন কাঙ্খিত সিংহাসনে তা জানতে ভোটের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে।

সহকারী রির্টানিং অফিসার ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, 'সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুরোদমে প্রস্ততি চলছে। ইতিমধ্যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের প্রবেশ পথ চলাচল উপযোগী করা হচ্ছে। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা টার্গেট পূরণ করতে পারবো।

এমএ
সম্পর্কিত   বিষয়:  পটুয়াখালী   বাউফল  


LATEST NEWS
MOST READ
Also read
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close