সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য, ইসরায়েল সফর এবং ভারত-ইসরায়েল কৌশলগত সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এর প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও উগ্র ও মৌলবাদী বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যকার কৌশলগত ও সামরিক সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশ একে অপরকে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। একই সময়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের অবস্থান এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে ভারতের কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য মুসলিম বিশ্বে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈশ্বিক মেরুকরণের প্রভাব স্থানীয় পর্যায়েও পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও উসকানিমূলক বক্তব্য বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাত ও সংকটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করতে পারে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থানে থাকায় এই ধরনের পরিস্থিতি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে তা সামাজিক বিভাজন, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোর মধ্যে উল্লেখ করছেন- সাম্প্রদায়িক বিভাজন বৃদ্ধি, কূটনৈতিক সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি এবং সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ধর্মীয় উসকানি ও সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি যাতে ভারসাম্যপূর্ণ ও অসাম্প্রদায়িক অবস্থান বজায় রাখে, সে বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ অতীতেও উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে সামান্য অবহেলাও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
টিএস