গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। পরে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন তাঁরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুলসহ বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে ওভারপাসসহ সড়কের দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সড়ক অবরোধের কারণে লিংক রোডের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও বাসযাত্রীরা। অনেক যাত্রীকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। আবার অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের মধ্যে আটকে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গার্মেন্ট থেকে শ্রমিকদের বের করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভুইগড় এলাকায় একটি কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন।
বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাঁদের উপার্জিত বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়েনি। এ কারণে তাঁরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।
হাসানুর রহমান নামে এক শ্রমিক বলেন, "নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যেভাবে দাম বেড়েছে, তাতে আমাদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা যেখান থেকে বাজার করেন, আমরাও সেখান থেকেই বাজার করি। তাঁদের বেতন বাড়লে শ্রমিকদের বেতন বাড়বে না কেন? আমরা সরকারের পাশে দাঁড়ালে সরকার কেন আমাদের পাশে দাঁড়াবে না? আমাদের বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।"
নুর আলম নামে আরেক শ্রমিক বলেন, "বর্তমানে আমরা যে বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।"
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, "সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পর এ ধরনের আন্দোলন হওয়ার কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এখানে উসকানি দিচ্ছে। এটা বরদাশত করা হবে না। আমরা সাধারণ শ্রমিকদের পাশে আছি। সরকার তাঁদের বিষয়টি দেখবে।"
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, "আমরা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছি, সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে যুক্তিসংগত সমাধান করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছি। তাঁদের ন্যায়সংগত দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরব।"
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য সহায়ক। আলোচনার মাধ্যমে সবার সমস্যা সমাধান করা হবে। শ্রমিকদের শ্রমের বিনিময়েই সরকার এসেছে। আমরা শ্রমিকদের পাশে আছি। আপনারা কারও উসকানির শিকার হবেন না।"
এসএস/আরএন