ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
জমি-ঘর সবই আছে, নেই শুধু বসবাসের মানুষ!
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল পাকা ও টিনশেড ঘর। তবে নির্মাণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ঘরেই বসবাস করছেন না বরাদ্দ পাওয়া পরিবারগুলো। উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ ঘরই পড়ে রয়েছে তালাবদ্ধ অবস্থায়। বসবাস করছে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ পরিবার। এদিকে উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেকের নামে জমি ও ঘর বরাদ্দ থাকলেও সেখানে বসবাসের মানুষ নেই। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব আবাসন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই কার্যত অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫২টি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় দুই লাখ টাকা। পরে উপকারভোগীদের মধ্যে এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ১৫২টি ঘরের মধ্যে ১৩৫টিই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে বসবাস করছে মাত্র ১৭টি পরিবার।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত পাকা ও টিনশেড ঘরের অনেকগুলোই তদারকি ও সংস্কারের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এসব ঘর জনশূন্য ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বিশেষ করে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বালাপাড়া এবং ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত ঘরের বড় একটি অংশ অব্যবহৃত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে যাদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেরই নিজস্ব বাড়ি ও জমি রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের জমি নিয়ে বিরোধ এবং জনবসতি থেকে দূরবর্তী স্থানে প্রকল্পের অবস্থানও ঘরগুলো খালি পড়ে থাকার অন্যতম কারণ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘর ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় অনেক ঘরই এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

তাঁরা আরও বলেন, পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার, আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রকল্পগুলো আবারও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে অসহায় পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অপরিকল্পিতভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান বলেন, ‘ঘর পেয়ে যারা থাকছেন না, তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। অন্যথায় প্রকৃত গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হবে।’

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের উপযোগী করতে তদারকি শুরু করব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  এমএইচএস / এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝