মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার বিকেলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ১২টি নৌকা অংশ নেয়। নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী।
সকাল থেকেই নদীর দুই তীরে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রঙিন পালতোলা নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর ঢাকঢোলের শব্দে দর্শকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস।
মহম্মদপুর ছাড়াও নড়াইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে আসেন। নৌকাগুলোর পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা আর দর্শকদের করতালিতে মধুমতি নদীর দুই পাড় পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ঢাকার রূপায়ণ গ্রুপের আর্থিক সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘মধুমতি নৌকাবাইচ মেলা’। এ উপলক্ষে নদীর দুই পাড়ে বসেছে সপ্তাহব্যাপী গ্রামীণ মেলা। খাবার, মিষ্টি-মিঠাই, খেলনা ও বিভিন্ন পণ্যের দোকান ঘিরেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী।
এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, নৌকাবাইচ, মাগুরার কাত্যায়নী পূজা ও ঘোড়দৌড়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন লোকজ আয়োজন কৃষিপ্রধান সমাজ ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং ইউনেস্কোর স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলের শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী মসলিনের মতো দেশের অন্যান্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাক, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউনেস্কোর সঙ্গে বৈঠকে নৌকাবাইচসহ বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যগুলোর স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতাও চাওয়া হবে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, নৌকাবাইচসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও বিনোদনের আয়োজন বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ধরনের আয়োজনের প্রসার ঘটলে তরুণ ও যুবসমাজ অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে থেকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আনন্দ আয়োজন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও পুলিশ পাশে রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুস্থ সংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম উগ্রবাদী চিন্তা ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে থাকবে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে নৌকাবাইচ উপভোগের জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মধুমতি নদীর দুই পাড়ে তৈরি হয় প্রাণের মিলনমেলা। নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে ঘিরে মহম্মদপুরে দিনভর বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এসএস