বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা, হামলার ঘটনায় বিচার এবং বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজাহার আলী হাওলাদার (৭৬)। এসব দাবিতে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বসেছেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন আজাহার আলী। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা।
অনশনরত মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার বসতঘরে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।
আজাহার আলীর অভিযোগ, সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সেটির নির্মাণকাজ শেষ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন বাধা ও জটিলতায় আটকে আছে নির্মাণকাজ। ফলে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও এখনো ঘরটির সুবিধা পাচ্ছেন না তিনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় তার বসতঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে কামাল গাজী (৫০), ফারুক গাজী (৪৫), শামীম (৪০), লিটন (৫৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অনশনরত বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী হাওলাদার বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। অথচ আজ নিজের বসতভিটায় নিরাপদে থাকতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ঘর বরাদ্দ পেলেও সন্ত্রাসীদের বাধায় ঘরের কাজ শেষ করতে পারছি না। আমি আমার বসতভিটায় নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
তবে সরকারি ঘর নির্মাণের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু মুছা। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাকে যে জমিতে সরকারি ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই জমির মালিক তিনি নন। জমিটি তার নিজস্ব না হওয়ায় সেখানে ঘর নির্মাণের কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজস্ব জমি থাকলে সেখানে ঘরের জন্য আবেদন করতে তাকে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তিনি আবেদন করেননি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফ করিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টিআই