দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১ নভেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের শেয়ার দাম কমার পাশাপাশি কমেছে সবকটি মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে কমেছে মূল্যসূচকও। তবে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। এর মাধ্যমে ডিএসইতে শেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ কার্যদিবস দরপতন হলো। আর সিএসইতে চার কার্যদিবস দরপতন হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবস ডিএসইতে দরপতন হয়। এ পরিস্থিতিতে রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের প্রথম আধাঘণ্টা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে।
কিন্তু প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার পর বাজারের চিত্র বদলে যেতে থাকে। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখায়। লেনদেনের শেষদিকে দাম কমার প্রবণতা আরও বাড়ে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৪৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯০টির দাম কমেছে এবং ১০টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৬টির দাম কমেছে এবং ৪টি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ৩০টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১টির দাম কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার। ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইভিন্স টেক্সটাইল।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সোনালী আঁশ, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, ফাইন ফুডস এবং এনভয় টেক্সটাইল।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৪টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৮২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
টিআই