ভোলার লালমোহনে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজের জন্য নির্ধারিত ২৪টি গাছের পরিবর্তে চার শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে দলীয় পদ হারিয়েছেন এক যুবদল নেতা। বহিষ্কৃত নেতা মো. জসিম উদ্দিন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।
শনিবার রাতে ভোলা জেলা যুবদলের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল কাদের সেলিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট, দলের নীতি-আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রমাগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁকে এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে উপজেলার কর্তাবাড়ি থেকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এ কাজের জন্য কিছু গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে সরেজমিন পরিদর্শন করে ২৪টি গাছ কাটার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চার শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় যুবদল নেতা জসিম উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জসিম উদ্দিন বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, সড়কের পাশের গাছ কাটার জন্য কোনো দরপত্র দেওয়া হয়নি। এরপরও একটি চক্র গাছ কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচপি/এসএস