ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
টানা দুই বছর ফেল, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজের কেউ পাস করেনি
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
X

নেত্রকোনা জেলা সদরে অবস্থিত নন-এমপিও ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ থেকে টানা দুই বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। 

এ বছর চারজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। এর আগের বছরও এ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি।

শুধু ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজই নয়, নেত্রকোনা জেলায় এবার ছয়টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। ছয়টি কলেজের সব কটিই নন-এমপিওভুক্ত।

গতকাল শনিবার প্রকাশিত ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চারজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন মানবিক এবং একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে শতভাগ অকৃতকার্যতার চিত্র উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, গত বছর এ কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরাও পাস করতে পারেননি। ফলে পরপর দুই বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

কলেজ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৯ সালে জেলা সদরের একটি গ্রামে ‘ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন কলেজ ও লোকসাহিত্য গবেষণা একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইকবাল হাসান তপু। প্রতিষ্ঠানটিতে কতজন শিক্ষক রয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, ‘এটি নন-এমপিও কলেজ। এখানে কোনো নিয়মিত শিক্ষক নেই। যখন যাঁকে প্রয়োজন, ডেকে আনা হয়। তাই নিয়মিত কোনো শিক্ষক নেই। সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধাও এখানে নেই।’

এবার চারজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেননি বলেও জানান তিনি।

জেলায় শূন্য পাসের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেন্দুয়া উপজেলার গোপালপুর মডেল কলেজ, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ, পূর্বধলার খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ।

জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজ থেকে একজন, কলমাকান্দা মহিলা কলেজ থেকে তিনজন, খলিশাপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা থেকে চারজন, এম্বিশন মডেল কলেজ থেকে ছয়জন এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ থেকে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এবার নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৩ হাজার ৯১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ হাজার ৮৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭০ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে দ্রুত আলোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীরা কেন অকৃতকার্য হয়েছেন, তা অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এসএস   
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝