মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচার ঘিরে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে অস্বস্তি বাড়ছে। শিশু যৌন নিপীড়ন-সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত একটি ঘটনাকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপনটির পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে দলের নেতাদের সেটি সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে নৈতিকতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকে রিপাবলিকান নেতাদের একাংশ বিজ্ঞাপনটির বিরোধিতা করছেন।
আইওয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প রিপাবলিকান নেতা বিবেক রামাস্বামীকে বিজ্ঞাপনটি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতেও বলেন তিনি।
তবে আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন বিজ্ঞাপনটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে দলের ভেতরে মতপার্থক্য রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী প্রচারের ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মিশিগানে এল-সায়েদকে ঘিরে বিতর্কিত প্রচার
এদিকে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে প্রচার জোরদার করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স ও তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের প্রচারে এল-সায়েদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ প্রচারে যুক্ত হয়েছেন।
নির্বাচনের দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে এ ধরনের প্রচারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনমত জরিপকারী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদদের একাংশের ধারণা, এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের ভোটব্যাংকে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে এ অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কৌশলবিদদের মতে, এ প্রচারের মাধ্যমে ডেট্রয়েট এলাকার ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি অংশকে এল-সায়েদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। নির্বাচনে এসব ভোটারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞাপন নিয়ে রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ এবং মিশিগানে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে প্রচার মার্কিন নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। এসব প্রচার শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট হবে।
এসএ