মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এ ধরনের গর্হিত ঘটনা বন্ধে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি এ কাউন্সিলের আয়োজন করে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ৩০০ ইমাম ও খতিব অংশ নেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে এ ধরনের গর্হিত কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা প্রতিরোধে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইমামদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় ইমাম, ওলামা, পীর-মাশায়েখরা তাঁর পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁকে জয়ী করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে এই বন্ধুত্ব রক্ষা করতে হবে।
ইমামদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভাই, আমরা আপনাদের কামলা। যে কোনো কাজে হুকুম করবেন, আমরা তা পালন করার চেষ্টা করব।’
ইমামদের ভাতা প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই তারেক রহমান ইমামদের ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এরই মধ্যে ইমামরা ভাতা পাওয়া শুরু করেছেন।
ইমামদের সামাজিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ইমামরা ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের বক্তব্য সমাজকে সুন্দর ও সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে ইমামদের সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। এ সময় জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
-টিএস