বাংলা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে নেটফ্লিক্স। এ চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছরে হইচইয়ে মুক্তি পাওয়া প্রতিটি নতুন সিরিজ হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় নেটফ্লিক্সে প্রচার করা হবে।
বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন সিরিজগুলো হইচইয়ে বাংলায় মুক্তির দিনই নেটফ্লিক্সে তিনটি ভাষায় দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এ উদ্যোগের আওতায় প্রথম মুক্তি পাবে হরর সিরিজ ‘দ্য কার্সড টেম্পল অব কৌরিবুড়ি’। লোককথাভিত্তিক এ সিরিজটি আগামী ৬ নভেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিৎু কমল, সোলাঙ্কি রায় ও পাওলি দাম। আগামী কয়েক মাসে আরও সিরিজ এ তালিকায় যুক্ত হবে।
এ ছাড়া হইচইয়ের আগে মুক্তি পাওয়া ১৪টি সিরিজও নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ম্যাডাম ইন্সপেক্টর’, ‘সম্পূর্ণা’, ‘লজ্জা’, ‘একেন বাবু’, ‘অঞ্জান সায়ে’, ‘দ্য কার্স অব পর্ণশবরী’, ‘ব্লাডলাইনস’, ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব দাদি অ্যান্ড জগ্গা’, ‘রাত আভি বাকি হ্যায়’, ‘অচিন্ত্য: ট্রায়াল বাই ল’, ‘শাদি কা সিয়াপ্পা’, ‘কুইন্স’, ‘পরিণীতা: আ লাভ স্টোরি’ এবং ‘মহানগর’। এসব সিরিজে অপরাধ, গোয়েন্দা রহস্য, লোককথাভিত্তিক ভৌতিক গল্প, সামাজিক ও আদালতকেন্দ্রিক নাটক এবং রোমান্সের মতো বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।
চুক্তির আওতায় নতুন সিরিজ যৌথভাবে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে নেটফ্লিক্স ও হইচইয়ের। হইচইয়ের নির্বাচিত কিছু গল্প নতুনভাবে উপস্থাপন করে মৌলিক সিরিজ তৈরি করবে প্রতিষ্ঠান দুটি। এসব সিরিজ প্রযোজনা করবে হইচই স্টুডিওস। প্রতিটি রূপান্তরে নতুন সৃজনশীল ব্যক্তিদের যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নেটফ্লিক্সের জন্য এ চুক্তি নিজস্ব প্রযোজনার পাশাপাশি বাইরের নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কনটেন্ট যুক্ত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বজুড়ে তাদের দর্শকসংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি। ফলে বিভিন্ন স্টুডিও, টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ও নির্মাতাদের জন্য নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে ফ্রান্সের সম্প্রচারমাধ্যম টিএফওয়ানের সব অনুষ্ঠান নেটফ্লিক্সে প্রচারের চুক্তি হয়। চলতি মাসের শুরুতে ব্রাজিলের সম্প্রচারমাধ্যম গ্লোবোর সঙ্গেও চুক্তি করে নেটফ্লিক্স। নিজ দেশের বাজারে দীর্ঘদিন নেটফ্লিক্সকে কনটেন্টের লাইসেন্স না দিলেও গ্লোবোর অনুষ্ঠান লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নেটফ্লিক্সে প্রচারিত হয়ে আসছিল।
২০১৭ সালে এসভিএফের নতুন মিডিয়া শাখার প্রথম উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে হইচই। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও এসভিএফের নির্বাহী পরিচালক বিষ্ণু মোহতার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে প্ল্যাটফর্মটি। হইচইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের সংগ্রহে রয়েছে ২ হাজার ঘণ্টার বেশি কনটেন্ট। এর মধ্যে ১০০টিরও বেশি মৌলিক সিরিজ, চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র রয়েছে। বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটিরও বেশি বাঙালির কাছে পৌঁছানোর দাবি করে প্ল্যাটফর্মটি।
২০২৩ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজনায়ও যুক্ত হয় হইচই। এ লক্ষ্যে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় হইচই স্টুডিওস।
এসএস