গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বুধবার সকালে শিশুটির গর্ভপাত হয় বলে মায়ের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি আহাদ (২১) নামের এক অভিযুক্তকে জানালে তিনি গর্ভপাত ঘটানোর জন্য ওষুধ এনে দেন। ওই ওষুধ সেবনের পর গর্ভপাত হয় বলে দাবি করেছেন শিশুটির মা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্তরা। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বলে তার মায়ের অভিযোগ।
গর্ভপাতের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস আগে এক সন্ধ্যায় আহাদ শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের পুরোনো বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে অন্য অভিযুক্তরাও বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মোক্তারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কমল শেখের ছেলে আহাদ, মৃত ইসলামের ছেলে শামীম (৪২) এবং মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫)। অপর অভিযুক্তের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শিশুটির বাবা প্রায় ছয় বছর আগে মারা যান। তার মা ও বড় বোন স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন। শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এফএস