প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পাহাড়, হ্রদ আর সবুজ প্রকৃতির টানে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। এতে শহরের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি, পাশাপাশি প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে হোটেল, রিসোর্ট, খাবারের দোকান ও পর্যটননির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে রাঙামাটির পলওয়েল পার্ক, ঝুলন্ত সেতু, শুভলং, বার্গিলেক ও রাজবাড়িসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে এসব স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ হ্রদের নীল জলরাশি ও পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করছেন, কেউ আবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
পর্যটকদের এমন উপস্থিতিতে শহরের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, খাবারের হোটেল, নৌযানসেবা এবং ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। পর্যটকদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেচাকেনাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি শহরের পুরোনো বাসস্টেশন এলাকায় অবস্থিত ‘স্কয়ার পার্ক’-এর মালিক নিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমার হোটেলের সব কক্ষ আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। এরই মধ্যে অনেকেই ফোন করে রুম বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করছেন। কিন্তু সব কক্ষ বুকিং থাকায় নতুন করে অনেককে রুম দিতে পারছি না।”
তিনি আরও জানান, পর্যটকদের আগমন বাড়ায় হোটেল ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় কক্ষের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেক পর্যটককে আবাসন নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এদিকে, পর্যটকদের আগমনে রাঙামাটির বিভিন্ন খাবারের হোটেল, রেস্তোরাঁ, ভাসমান দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যস্ততা বেড়েছে। পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশে খাবার, পানীয়, হালকা নাশতা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এসব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই পর্যটকদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটকদের উপস্থিতি শুধু হোটেল কিংবা রিসোর্ট ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নৌযানচালক, পরিবহনশ্রমিক, খাবারের দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবিকা। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে এসব পেশার মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগও বৃদ্ধি পায়।
তবে হোটেল কক্ষের সংকটের কারণে আগাম বুকিং ছাড়া রাঙামাটিতে আসা পর্যটকদের আবাসন খুঁজতে ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক আবাসন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় রাঙামাটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের আগেই হোটেল বা রিসোর্টের কক্ষ বুকিং করে আসার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, পর্যটকদের পদচারণায় রাঙামাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও পর্যটনকেন্দ্রে এখন প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পর্যটকদের এই আগমন স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা, সেবার মান উন্নয়ন এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা গেলে রাঙামাটির পর্যটন খাত আরও গতিশীল হবে।
এসএ