তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলার, তুরস্কের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওলু এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষাসক্ষমতা জোরদার করতে বুধবার একটি চুক্তি সই করেছে তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহের অংশ হিসেবে দেশগুলো দোহায় ‘বদর সমঝোতা চুক্তি’ সই করেছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, এই চুক্তির উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সামরিক উৎপাদনে সহযোগিতা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ চুক্তির লক্ষ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিটি দেশের নিজস্ব সামরিক উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এ উদ্যোগ সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াবে, প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা জোরদার করবে এবং মিত্র ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পও বেশ শক্তিশালী। ইরান যুদ্ধের মধ্যে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে দেশটি।
গত আগস্টে পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে তুরস্ক। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি পক্ষের ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বদর চুক্তি দেশগুলোর প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়াবে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প বিভাগের চেয়ারম্যান হালুক গোরগুন বলেছেন, যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে ‘কৌশলগত সহযোগিতার’ ভিত্তি তৈরি করেছে এ চুক্তি।
এক বিবৃতিতে গোরগুন বলেন, ‘প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উন্নয়ন এবং নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা জোরদার করা টেকসই প্রতিরক্ষা শিল্পের মূল ভিত্তি। তুরস্ক হিসেবে আমরা এমন অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দিই, যা সরাসরি তৈরি পণ্য কেনার প্রচলিত মডেলের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি দেশের নিজস্ব মানবসম্পদ ও শিল্প অবকাঠামোর বিকাশে সহায়তা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বদর সমঝোতা চুক্তি কাতার, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের পরিপূরক সক্ষমতাগুলোকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে সহায়তা করবে।’
রয়টার্স/ টিআই