আফ্রিকার সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ আবেই অঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলার জন্য সুদানকে দায়ী করেছে দক্ষিণ সুদান। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সোমবার তেলসমৃদ্ধ আবেই অঞ্চলের আমিয়েত বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আবেই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ইয়োহানা আকোল এনগর জানান, হামলার পর বাজারের বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে কয়েকটি মরদেহ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আগুন এখনো জ্বলছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ।”
রয়টার্সকে তিনজন কূটনৈতিক সূত্র, একজন ত্রাণকর্মী ও সংঘাতবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ড্রোন হামলায় বাজারের একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত লাগে। ওই ডিপোটি অতীতে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার আগে তিনি পাঁচটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপর জ্বালানি ডিপোতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে তিনি এক জায়গায় ২৮টি পোড়া মরদেহ দেখেছেন বলেও জানান।
তবে হামলার সময় বাজারে আরএসএফ বা অন্য কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্যদের তিনি দেখতে পাননি বলে জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
হামলার কারণে প্রায় ৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আবেই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, তারা কাছের আমেথ বেক হাসপাতালে ২০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিচ্ছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘটিত হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটি সুদানে ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে সুদানে দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেই অঞ্চলটি আরএসএফের সামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
হামলার প্রতিবাদে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, সুদানে অব্যাহত ড্রোন হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের ওপর এসব হামলা ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, হামলার বিষয়ে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এফএস