ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৪টি হামলা চালিয়ে প্রায় ২০০ হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা এবং ৯০টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একাধিক রণাঙ্গনে অভিযান জোরদার করেছে সরকারি বাহিনী।
মঙ্গলবার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি এ তথ্য জানান। তাঁর দাবি, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর আওতায় এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আল-নুজাইলি জানান, হুথিদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, সুরক্ষিত অবস্থান, গোলাবর্ষণের স্থান, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, অতিরিক্ত সেনা ও রসদ সরবরাহের পথ লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ফিল্ড আর্টিলারি, রকেট লঞ্চার ও স্নাইপার ইউনিট অংশ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাইজ অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর আক্রমণ আরও জোরদার করা হয়েছে। এতে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রণাঙ্গনে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে হুথিদের অতিরিক্ত সেনা সরানো এবং নতুন এলাকা দখলের সক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা চলছে।
আল-নুজাইলি বলেন, সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে এবং বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সোমবার আল-নুজাইলি দাবি করেন, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনী ১ হাজার ১৬৪টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৫৫৮ জন হুথি যোদ্ধাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন মাঠপর্যায়ের কমান্ডার রয়েছেন বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ১৩৫টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবিও করেন তিনি।
সোমবারের বিবৃতিতে তাইজে সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি, শাবওয়া ও দক্ষিণাঞ্চলীয় রণাঙ্গনে হুথিদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা এবং পশ্চিম উপকূল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অভিযানের কথাও উল্লেখ করা হয়।
ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে হুথিদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানও চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবে হুথিদের বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
তবে সরকারি বাহিনীর হামলা, হতাহতের সংখ্যা এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে এসব পরিসংখ্যান ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এফএস