ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারি করেছে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী শনিবারের বিক্ষোভে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বহু দোকান ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবারের বিক্ষোভে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ‘সেন্তিনেল’ ইউনিট মোতায়েন করা হবে। এর মাধ্যমে পুলিশ ও জেন্ডারমেরির ওপর চাপ কমিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের রিপাবলিক স্কয়ার ও লে আল এলাকার নির্দিষ্ট অংশে রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি শহরে রাতের চলাচল ও সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে সহিংসতার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে। সুপারমার্কেট চেইন ক্যারেফোরও ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তাব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবের কথা জানিয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ থেকে আন্দোলন শুরু হলেও পরে এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
এদিকে ফরাসি সরকার দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে।
এফএস