সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে বর্তমান সময়কে অন্যতম কঠিন সময় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও কৌশলগুলো একযোগে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন সালমানের কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত সৌদি আরবের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে নতুন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
এদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্যোগও প্রত্যাশিত মাত্রায় সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে বহুমুখী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’ও চাপে রয়েছে। অর্থায়নসংকট, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং নিরাপত্তা খাতে ব্যয় পুনর্বণ্টনের প্রয়োজনীয়তা এই পরিকল্পনার অগ্রগতিকে কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বহুল আলোচিত মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন, শিল্প ও অন্যান্য খাতের বিকাশের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়ানো। কিন্তু আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এই লক্ষ্য অর্জনের পথে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের চাপ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামাল দিতে হচ্ছে মোহাম্মদ বিন সালমানকে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সরকার কতটা সফল হয়, তা সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট।