ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নরোধে বীমা কোম্পানিগুলোকে বিএফআইইউর নির্দেশনা
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
X
Advertisement

অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করেছে।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বিদ্যমান আইন এবং বিএফআইইউর নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি বীমা কোম্পানিকে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব নীতিমালা করতে হবে।

এই নীতিমালা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শীর্ষ নীতি-নির্ধারণী বা ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদন করবে। নীতিমালার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের জানাতে হবে, বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ঝুঁকি ও পরিচালনাগত বাস্তবতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে তা পর্যালোচনা করতে হবে।

এজন্য সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিএফআইইউর নির্দেশনা যেন অবশ্যই মেনে চলা হয়-বীমা কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, প্রধান নির্বাহী ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকদের তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিএফআইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন করতে হবে। এ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (সিএএমএলসিও)। প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব থাকবে এ ইউনিটের ওপর।

এই ইউনিটকে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কোম্পানির ব্যবসার আকার, পরিচালনার পরিধি ও গ্রাহক সংখ্যা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিটে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ।

কমপ্লায়েন্স ইউনিটকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

প্রধান নির্বাহীর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ প্রতিবেদনটি পরিচালনা পর্ষদ বা সর্বোচ্চ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউর কাছে এর একটি অনুলিপি পাঠাতে হবে।

বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের সব শাখা, এজেন্সি, ইউনিট, দাবি নিষ্পত্তি এজেন্ট ও কমিশন এজেন্টদের জন্যও এমন নীতিমালা করতে হবে। এতে গ্রাহক শনাক্তকরণ, লেনদেন নজরদারি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই সম্পূর্ণ ও সঠিকভাবে গ্রাহকদের পরিচয় নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং বিএফআইইউর আধুনিক ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (গ্রাহকের তথ্য ফরম) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এতে বেনামি বা ছদ্মনামের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে হবে।

যেকোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে গ্রাহকের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত নজরদারি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা চ্যানেল ছাড়া একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানিগুলো অবশ্যই পরের মাসের প্রথম ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউকে জানাবে।

উদ্দেশ্যহীন, অস্বাভাবিক বা জটিল লেনদেনের বিষয়ে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত বিএফআইইউকে জানাতে হবে। কোনো পলিসি বন্ধ বা দাবি নিষ্পত্তির পর সব কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের রেকর্ড, অডিট রিপোর্ট এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নথি ন্যূনতম পাঁচ বছরের জন্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশনায়।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে বিএফআইইউ। দেশের সব বিমা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করতে নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ।

টিআই
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement