আজ ২১ অক্টোবর, বিশ্ব মর্যাদা দিবস। মানুষের আত্মমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সমানাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের তৃতীয় বুধবার দিবসটি পালন করা হয়। ২০২৬ সালে দিনটি পড়েছে বুধবার, ২১ অক্টোবর।
বিশ্ব মর্যাদা দিবসের মূল বার্তা—প্রত্যেক মানুষ সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রাখেন। মানুষের সামাজিক অবস্থান, পেশা, আর্থিক সামর্থ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা পরিচয় যা-ই হোক না কেন, সবার প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
দিবসটির উদ্যোগের সূত্রপাত ২০০৫ সালে। নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন, মার্কিন উদ্যোক্তা জন ব্রায়ান্ট এবং ফিনিশ দার্শনিক পেক্কা হিমানেন মানুষের মর্যাদাকে সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালে গ্লোবাল ডিগনিটি কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয় এবং বিভিন্ন দেশে তরুণদের মধ্যে মর্যাদাবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যুবকেন্দ্র ও সামাজিক সংগঠনে আলোচনা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং মর্যাদাবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষকে নিজের মূল্য উপলব্ধি করার পাশাপাশি অন্যের অধিকার, অনুভূতি ও স্বাতন্ত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে উৎসাহিত করা হয়।
বর্তমান বিশ্বে বৈষম্য, বর্ণবাদ, সহিংসতা, হয়রানি ও সামাজিক অবমাননার মতো সমস্যা মানুষের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশু, নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা একটি মানবিক সমাজ গঠনের অপরিহার্য শর্ত।
বিশ্ব মর্যাদা দিবসের শিক্ষা শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, অপমান ও বৈষম্য থেকে বিরত থাকা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়েই মর্যাদার চর্চা বাস্তব রূপ পেতে পারে।
দিবসটির তাৎপর্য হলো—নিজের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি অন্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাও প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাই পারে আরও ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে।
এফএস