ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে দেশটির জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্ম থেকে নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করা হয়। পরে রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি আরব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের লাইভ আপডেটে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এ সময় নগরীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
এরপর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি বাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হুতি মিলিশিয়ার ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সৌদি বাহিনী সেটি প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। একই সময়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরাও রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান।
ইয়েমেনকে ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায় ইরানের একটি বিমান অবতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ে। ওই ঘটনার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হামলা চালালে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ইয়েমেনের পাশাপাশি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরেও উদ্বেগ
সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের ভূখণ্ড ছাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গত ৫ অক্টোবর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করে। এতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধবিমানও অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে হুতিদের অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হুতিরা রিয়াদ বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘাতের বিস্তারে বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি
সর্বশেষ ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণশিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু হতাহতের খবর সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
রিয়াদে সতর্কবার্তা জারির পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের সৌদি দাবি নতুন করে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কোথায় পড়েছে, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না এবং এ ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, এএফপি ও প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট সূত্র।