চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা, দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর হাতকড়াসহ পলাতক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্যকে টানা ১৬ ঘন্টা পর অভিযান চালিয়ে মো. আবু সিদ্দীককেও (৭০) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আবু সিদ্দীক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে দর্শনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্ল্যা আরিফুল ইসলাম বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।
ওই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ আবু সিদ্দীককে আটক করে। পরে তাঁকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আবু সিদ্দীককে হেফাজত থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় সরকারি কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে আসামিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন মাপের নয়টি বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া জব্দ করা হয়।
এদিকে, আবু সিদ্দীককে ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার চণ্ডীপুর পূর্বপাড়ার তরিবত মন্ডলের ছেলে মো. আবু সিদ্দীক (৭০), রবি হালদারের ছেলে লক্ষণ (৩৮), সেলিম উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (১৯), হারুণ আর রশিদের ছেলে ফরহাদ হোসেন (১৯), শ্রী মিলন হালদারের স্ত্রী সোনালী হালদার (৩০), সঞ্জয় হালদারের স্ত্রী কণা রাণী (২৫), খোকনের স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪০), সদর মণ্ডলের ছেলে আলম বাদশা (৫৫) এবং হরেন হালদারের ছেলে ফুলন হালদার (৩২)। তাঁরা সবাই চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সিসিআইসি ও দর্শনা থানা পুলিশের সমন্বয়ে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার বলেন, পুলিশ হেফাজতে নেওয়া এক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করার ঘটনা ঘটে। পরে ডিবি, সিসিআইসি ও দর্শনা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনাস্থল থেকে ৯টি বাঁশের লাঠি ও ২টি হাসুয়া জব্দ করা হয়। পলাতক আবু সিদ্দীককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করে গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসএ