ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
দড়ির তৈরি রকমারি আসবাব যাচ্ছে জেলায় জেলায়, বছরে অর্ধকোটি টাকার বাজার
✎ অবজারভার ডিজিটাল ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

সংসার সামলানোর পাশাপাশি মেধা, সৃজনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আঞ্জুয়ারা খাতুন ও আল আমিন শাহিন দম্পতি। দড়ি ও কাঠ দিয়ে তৈরি করছেন নান্দনিক খাট, সোফা, চেয়ার, টুল, দোলনাসহ প্রায় ৫০ ধরনের আসবাবপত্র। তাদের তৈরি এসব পণ্য এখন দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের পিয়ালিমারি এলাকার এই দম্পতি বর্তমানে শিবগঞ্জ পৌরসভার বাগানটুলি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছেন দড়ি ও কাঠের তৈরি রকমারি পণ্যের কারখানা। ‘আয়েশি’ নামের এই উদ্যোগের পণ্যের বার্ষিক বাজার প্রায় অর্ধকোটি টাকা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তবে পর্যাপ্ত মূলধন ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের।
আঞ্জুয়ারা খাতুন ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করার পর বিয়ের পর স্বামী আল আমিন শাহিনের সঙ্গে শিবগঞ্জে চলে আসেন। সংসারের পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থেকেই ২০১৮ সালে ‘চাঁপাই রকমারি পণ্য’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে আম ও আমজাত বিভিন্ন খাবার বিক্রি শুরু করেন তিনি।

তবে আম মৌসুমি ফল হওয়ায় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবসা জমজমাট থাকলেও অন্য সময় তা অনেকটাই বন্ধ থাকত। সেই সময়কে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই একদিন একটি দড়ির টুল তৈরি করে তার ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন আঞ্জুয়ারা। ঢাকার এক বন্ধু টুলটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে সেখান থেকেই শুরু হয় দড়ির তৈরি আসবাবপত্র তৈরির যাত্রা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে একসময় দড়ির খাট ও টুলের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এসব আসবাবে বসা বা শোয়ার ক্ষেত্রে স্বস্তি ও আরাম পাওয়া যায়। সেই আরাম ও প্রশান্তির ভাবনা থেকেই ২০২০ সালে নিজেদের ব্র্যান্ডের নাম রাখা হয় ‘আয়েশি’।
বর্তমানে অনলাইন, ফেসবুক পেজ ও নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছেন তারা। স্বামী আল আমিন শাহিন কাঁচামাল সংগ্রহ ও কারখানায় পণ্য তৈরির কাজ দেখাশোনা করেন। আর স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন প্রচার-প্রচারণা, অনলাইন যোগাযোগ ও বিক্রির বিষয়টি পরিচালনা করেন।

কারখানায় বাবলা কাঠ ও দড়ির বুননে তৈরি হচ্ছে প্রায় ৫০ ধরনের পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে সোফা, খাট, ডাইনিং চেয়ার, দোলনা, বিভিন্ন আকারের টুল, রুবিকস কিউব চেয়ারসহ নানা ধরনের আসবাব।

ক্রেতাদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে এসব পণ্যের দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। আকারভেদে সোফার দাম ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা, ছোট-বড় টুল ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ডাইনিং চেয়ার ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং রুবিকস কিউব চেয়ার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার টাকায়। এছাড়া ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিজাইনেও পণ্য তৈরি করে দেন তারা।

এই উদ্যোগ শুধু ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তৈরি করেছে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও। বর্তমানে কারখানায় স্থায়ীভাবে চারজন কাঠমিস্ত্রি কাজ করছেন। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার গৃহিণীদেরও দড়ি বুননের কাজে যুক্ত করেছেন উদ্যোক্তারা। চুক্তিভিত্তিক এসব কাজ করে তারা ঘরে বসেই আয় করছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের অবসর সময় কাজে লাগছে, অন্যদিকে সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা তাদের তৈরি পণ্য কিনছেন। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিজেদের ব্যবহারের জন্য এসব পণ্য কিনে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাদের পণ্যের বার্ষিক বাজার প্রায় অর্ধকোটি টাকা। তবে পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উৎপাদন বাড়িয়ে ব্যবসাটিকে আরও বড় পরিসরে নেওয়া সম্ভব।

‘আয়েশি’র স্বত্বাধিকারী আল আমিন শাহিন বলেন, তাদের তৈরি পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মূলধনসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে সরাসরি বিদেশে পণ্য পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চান তারা।
‘আয়েশি’র সেলস ম্যানেজার আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ডিজাইনের সমন্বয় করে তারা পণ্য তৈরি করছেন। ক্রেতাদের পছন্দ ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের পণ্য তৈরির চেষ্টা চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিসিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাজিদুল ইসলাম বলেন, জেলা বিসিক কার্যালয় থেকে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থাও রয়েছে। উদ্যোক্তার চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

স্থানীয় ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা ও আধুনিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি এসব দড়ির আসবাব এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। উদ্যোক্তা দম্পতির স্বপ্ন, সরকারি সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘আয়েশি’র পণ্য একদিন দেশের বাজার ছাড়িয়ে সরাসরি বিদেশের বাজারেও পৌঁছাবে।

মো. সিফাত রানা/এসএ
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement